কুমিল্লা চীফ জুডিশিয়াল আদালতের পেশকার মো:গোলাম কবিরের বিরুদ্ধে এক নারী সাংবাদিককে যৌন হয়রানি, প্রাণনাশের হুমকি ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (১৩ আগস্ট) সকালে কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সামনে নারী সাংবাদিক মোসা. সালমা আক্তারের ওপর এ সকল নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে নারী সমাজ, সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে ভুক্তভোগী সাংবাদিক মোসা. সালমা আক্তার জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ‘দৈনিক ভোরের সময়’ পত্রিকার কোর্ট প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন। আদালতের বিজ্ঞাপন বিভাগ থেকে পলাতক আসামিদের বিজ্ঞপ্তি সংগ্রহের সূত্রে পেশকার গোলাম কবিরের সঙ্গে তার পরিচয় হয়।
সালমার অভিযোগ, এক পর্যায়ে পেশকার কবির তাকে চা খাওয়ার কথা বলে গাড়িতে তুলে নিয়ে চলন্ত অটোরিকশার ভেতরে অশালীনভাবে স্পর্শ করেন। এ সময় তিনি প্রতিবাদ করে চিৎকার শুরু করলে চালক গাড়ি থামিয়ে দেয় এবং তিনি দ্রুত নেমে যান।
তিনি জানান, ঘটনার পর থেকে পেশকার কবির তাকে ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে বারবার হুমকি দেন। শারীরিক সম্পর্কে রাজি না হলে পত্রিকায় আর কোনো বিজ্ঞাপন দেওয়া হবে না বলেও জানানো হয়। এছাড়া তাকে “শেষ করে দেওয়া হবে” এমন ভয়ভীতি দেখানো হয়, যাতে কোনো প্রমাণ না থাকে। অজ্ঞাত পরিচয়ের সন্ত্রাসীরাও একাধিকবার তার বাসায় গিয়ে ভয় দেখিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন সালমা আক্তার।
সালমার ভাষ্য অনুযায়ী, শুধু হুমকি দিয়েই থেমে থাকেননি পেশকার কবির। তিনি নানাভাবে সালমার নামে অপপ্রচার চালাচ্ছেন এবং তার ব্যক্তিগত শত্রুদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তাকে ফাঁসাতে চেষ্টা করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১০ আগস্টে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির নামে তিতাস থানায় তার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলাও দায়ের করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “গোলাম কবির নিজেকে জুডিশিয়াল পেশকার হিসেবে প্রভাব খাটিয়ে আমার ওপর অন্যায়ভাবে নির্যাতন চালাচ্ছেন। তিনি বলেন, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরাও নাকি তার কথায় চলে। আমি মানসিকভাবে চরমভাবে ভেঙে পড়েছি।”
সাংবাদিক সালমা আক্তার এ বিষয়ে কুমিল্লা চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এবং যৌন হয়রানি ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলার প্রতিকার চেয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
Leave a Reply