স্টাফ রিপোর্টার
কুমিল্লায় বাড়ছে উদ্যোক্তা মেলা। উদ্যোক্তা তৈরির জন্য নিয়মিত হওয়া এসব মেলাগুলো নিয়ে এবার দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ মেলাকে কেন্দ্র করে ব্যবসায় ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন তারা।
কুমিল্লা প্ল্যানেট এস আর শপিংমলের উদ্যোক্তা মেলাগুলোতে অস্থায়ী স্টল বসিয়ে তুলনামূলক কম দামে পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। এতে নিয়মিত ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, কর ও কর্মচারীর বেতন দিয়ে টিকে থাকা সাধারণ দোকানগুলো প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
খোজ নিয়ে জানা যায়, একটি নির্দিষ্ট সময় ধরে চলা উদ্যোক্তা মেলার কারণে আশপাশের স্থায়ী দোকানগুলোতে ক্রেতা কমে যাচ্ছে আশঙ্কাজনক হারে। ফলে অনেক ব্যবসায়ী পড়ছেন লোকসানের মুখে, কেউ কেউ দোকান বন্ধের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মেলার সময়টাতে অনেক দোকানে বিক্রি অর্ধেকেরও নিচে নেমে যায়। অনেক উদ্যোক্তা মেলা দীর্ঘ সময় ধরে চললেও এর আগে আশপাশের দোকানিদের সঙ্গে কোনো সমন্বয় বা প্রভাব মূল্যায়ন করা হয় না। ফলে মেলা শেষ হলেও দোকানগুলোর ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে সময় লাগে দীর্ঘদিন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকানি বার্তা ২৪.কম-কে বলেন, ‘আমরা সারা বছর দোকান ভাড়া, ট্রেড লাইসেন্স আর ট্যাক্স দিই। কিন্তু মেলায় যারা বসে, তাদের এসব কিছুই দিতে হয় না। ফলে ক্রেতারা স্বাভাবিকভাবেই মেলার দিকেই চলে যায়।’
কুমিল্লা নিউ মার্কেটের ব্যবসায়ী আব্দুল হাফিজ বলেন, মেলা চলাকালে দোকান খোলা রেখেও কর্মচারীর বেতন তুলতে পারিনি। এভাবে চলতে থাকলে দোকান বন্ধ করা ছাড়া উপায় থাকবে না।
কুমিল্লা খন্দকার মার্কেটের ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, কুমিল্লা প্ল্যানেট এস আর শপিংমলে কয়দিন পর পর উদ্যোক্তা মেলা দেয় নারী উদ্যোক্তারা। এর কারণে আমরা মার্কেটের দোকানদাররা পথে বসার মত অবস্থা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক উদ্যোক্তা বার্তা ২৪.কম-কে বলেন, ‘আমরা এখানে অল্প সময়ের জন্য এসেছি। স্থায়ী দোকানদারদের ক্ষতি করার উদ্দেশ্য আমাদের না। কিন্তু মেলার নামে যে পরিমাণ স্টল বসানো হয়েছে, তাতে স্বাভাবিকভাবেই ক্রেতারা আমাদের দিকেই বেশি আসছে।’
আরেক উদ্যোক্তা বলেন, ‘আমরা সুযোগের সদ্ব্যবহার করছি মাত্র। স্থায়ী দোকানগুলোর মতো আমাদের কোনো দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নেই। তবে পরিকল্পনাহীনভাবে মেলা বসানো হলে দ্বন্দ্ব তৈরি হবেই।
Leave a Reply