স্টাফ রিপোর্টার:
১৮নং-ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির ছেলে কুমিল্লা নগরীর চিহ্নিত চাঁদাবাজ, হত্যা ও মাদক কারবারি হেলাল উদ্দিন (পরিচিত পুইট্টা হেলাল) ।
২৯ জুলাই বুধবার বিকেলে কোতোয়ালি মডেল থানার এস.আই মোঃ রুহুল আমিন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
২০০৩ সালের ২০ আগস্ট যুবদল নেতা আমির হোসেন বুরালকে প্রকাশ্যে হত্যার প্রধান আসামি হিসেবে অভিযুক্ত হেলাল, নগরীর নিজ বাড়ির পার্শ্বে’র অসহায় লালু মিয়ার মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে!
উল্লেখ্য যে মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ-আল-মাহমুদ সহিদ ওরুফে চিকা সহিদের ঘনিষ্ঠ সহযোগি ছিল!
রাজনীতির পট-পরিবর্তনের সময় ৫-এ আগস্টের পর তিনি নিজেকে যুবদল কর্মী পরিচয় দিয়ে এলাকায় চাঁদাবাজি ও মাদকের স্বর্গরাজ্য গড়ে তোলেন! দিনে মাদক কারবার আর রাতে নারী নৃত্য ও মদের আসর চালাতেন তিনি। অসহায় সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন দেখিয়ে চাঁদা আদায় করতেন। নুরপুর এলাকার মেয়ে রাবেয়া চাঁদা না দেওয়ায় পুরো পরিবারের ওপর স্টিমরোলার চালানোর অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা এখনো কোর্টে বিচারাধীন।
হেলালের অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। কয়েক মাস আগে নুরপুরের শাহ আলম ভবনের টিবিএস মোটরসাইকেল শোরুমে চাঁদা দাবি করে একটি মোটরসাইকেল জোরপূর্বক নিয়ে যান তিনি। চাঁদা না দিলে ব্যবসায়ীদের দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী জানান, হেলালদের পরিবারের অত্যাচারে অতিষ্ঠ ঢাকা-চট্টগ্রাম ট্রাঙ্ক রোডের ব্যবসায়ীরা, বিশেষ করে নুরপুর, গুদির পুকুরপাড় ও বারপাড়ার ব্যবসায়ীরা। তিনি বলেন, এই পরিবারকে প্রতিহত না করলে সমাজে অশান্তি বিরাজ করবে এবং সাধারণ মানুষের জীবন হুমকির মুখে পড়বে।
হেলালের বিরুদ্ধে নয়টিরও বেশি মামলা রয়েছে। এলাকাবাসী, সুশীল সমাজ ও সচেতন নাগরিকরা তার অত্যাচার থেকে পরিত্রাণ চান।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুর আনোয়ার জানান, হেলালের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। আদালতের আদেশ অনুযায়ী তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আদালতে প্রেরণ করা হবে।
Leave a Reply