কুমিল্লার তিতাসের আলোচিত নজরুল হত্যাকাণ্ডের ৯৯ দিন পর একটি মাথার খুলি (মাথার কঙ্কাল) পেয়েছে এলাকাবাসী।
আজ শনিবার সন্ধ্যায় এলাকার লোকজন মাছ ধরতে গিয়ে মানুষের এই খুলিটি পায়। পরে পুলিশকে খবর দিলে তা উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এলাকাবাসী ও পুলিশের ধারনা এটি নিহত নজরুলের হতে পারে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৬ আগস্ট রাতে উপজেলার শাহবৃদ্ধি গ্রামের নজরুল ভূঁইয়া (৩৫)কে ফোনে ডেকে এনে নিজ ঘরে কুড়াল দিয়ে হত্যা করে লাশ আট টুকরো করে গ্রামের পার্শ্ববর্তী খালে ফেলে দেন মজিদপুর গ্রামের মজু মিয়ার ছেলে সিএনজি চালক মোহাম্মদ হোসেন (৩২) ও তার স্ত্রী স্মৃতি আক্তার (২৭)। মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে ১০ আগস্ট ভোরে আটক হওয়ার পর তারা হত্যার কথা স্বীকার করে জানায় ইটসহ দুটি হাত একটি ব্যাগে, দুটি পায়ের ৪টি অংশ আরেকটি ব্যাগে এবং শরীর ও মাথা আলাদা আরো দুটি ব্যাগে করে বাড়ির পাশে খালের মধ্যে ফেলে দেয়। ওই দিন দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত পুলিশ গ্রাম সংলগ্ন খাল থেকে খন্ডিত দুই হাত উদ্ধার করে। পরের দিন অর্থ্যাৎ ১১ আগস্ট ভোরে কাকিয়াখালী মাইঠ্যা নদীতে স্থানীয় জেলেদের জালে একটি ব্যাগ উঠে আসে। এতে নজরুলের পায়ের ৪টি অংশ ছিল। পরে তা উদ্ধার করে থানা পুলিশ। একই দিন আসামীদ্বয় আদালতে ১৬৪ ধারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়।
পরবর্তীতে পুলিশ ও ডুবুরি দলের সমন্বয়হীনতার কারণে আর কোন অভিযান চালানো হয়নি। এরই মধ্যে ১৩ আগস্ট গ্রামবাসী আসামীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং আরো কেউ উক্ত ঘটনার সাথে জড়িত থাকলে তাদেরকে গ্রেফতারের দাবিতে গৌরীপুর-হোমনা সড়কের বিক্ষোভ মিছিল করে এবং উপজেলা পরিষদের প্রধান ফটকের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ করে।
এদিকে, ঘটনার ৯৯ দিন পর মজিদপুর ইউনিয়নের কাকিয়াখালী গ্রাম সংলগ্ন দুটি খালের ত্রিমোহনা থেকে আবার জেলেদের জালে একটি মাথার খুলি উঠে আসে। আসামীদের স্বীকারোক্তিমূলে শরীরের অংশটি অর্থ্যাৎ আরেকটি ব্যাগ এখনো উদ্ধার হয়নি।
তিতাস থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. খালেদ সাইফুল্লাহ জানান, মজিদপুর বাজারের পূর্ব-উত্তর পাশে খালের ত্রিমোহনায় এলাকা থেকে একটি মাথার খুলি উদ্ধার করা হয়েছে। আসামীদের স্বীকারোক্তিতে মাথায় যে আঘাতের কথা বলা হয়েছে, সেটির সাথে এই খুলির মিল রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে এটি নজরুলের। তবে ফরেনসি রিপোর্ট মাধ্যমে তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।
Leave a Reply